Headlines

জাতীয়


HOTEL GIVENCI INT.
T h e P a s t, P r e s e n t a n d F u t u r e
প্রকাশকালঃ সোমবার, ২০ মে, ২০১৩
সস্পাদনায় Unknown

কেমন আছেন রানাপ্লাজা থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া আমাদের সেলাই দিদিমনিরা ???


সাভার থেকে ফিরে আরিফ রহমান শিবলীঃ

"দিদিমনি দিদিমনি সেলাই  দিদিমনি, লালটুকটুক লালটুকটুক দিদিমনি"।সেলাই দিদিমনিদের শরীর গুলো জেমস এর কন্ঠে গাওয়া গানটির মতই লাল হয়েছিল ঠিকই কিন্তু তা শুধুই রক্তের। আর রক্ত ঝরা এই জীবিত সেলাই দিদিমনিদের কথা হয়তো মহাসেন এর মত প্রাকৃতিক দূর্যোগ কিংবা হেফাজতে ইসলামের  ঢাকা  অবরোধের মত ঘটনার কারনে আমরা এখন ভুলে যেতে বসেছি। ভোর ৫টা ৪০ এ সাভারের উদ্দ্যেশে তাই রওনা হলাম রানাপ্লাজা থেকে উদ্ধার হওয়া সেলাই দিদিমনিদের খোজে। প্রথমেই স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় খুজে পেলাম সেলাই দিদিমনি মনোয়ারা বেগমের বাসা। গিয়ে দেখলাম তার একমাত্র মেয়ে কবিতা তার মা কে ধরে উঠানোর চেষ্টা করছে নাস্তা খাইয়ে ঔষধ খাওয়াবে বলে। ১১ বছরের এই কবিতার থাকার কথা ছিল স্কুলে সময় কাটানোর কথা ছিল বন্ধুদের সাথে। তার এমন একটি স্বপ্ন কে সত্যি করতে আরেকটু স্বস্তির জীবনের আশায় মা-বাবার সাথে সে এসেছিল ঢাকায়। কিন্তু যে স্বপ্ন দেখিয়ে ঢাকায় নিয়ে এসেছিল মা তিনি আজ আজ নিথর হয়ে শুয়ে আছেন অর্ধমৃত্য হয়ে।  রানাপ্লাজায় ৭০ ঘন্টা আটকে থাকার পর  জীবিত বের হয়ে আসেন এই সেলাই দিদিমনি মনোয়ারা বেগম। 

বি২৪ নিউজ কে তিনি বলেন, আল্লাহ-ই আমারে বাঁচাইয়া আনছে। ভেতরে আটকাইয়া ভাবছিলাম কবর মনে হয় তৈরী হইয়া গেছে আমার আর মনে হয় বাইরে যেতে পারুম না। আমার পাশে ২ টা ব্যাটারে দেখছি পানির জন্য কানতে কানতে একপর্যায়ে চুপ হইয়া গেছে। এই কথা বলতেই তার চোখ ছল ছল করে উঠে পানিতে। সরকারের সহায়তা পেয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সেলাই দিদিমনি মনোয়ারা বলেন, হেরা ২ লাখ দিয়া আর কোন খোজ খবর নেওনের দরকার মনে করে নাই। এহন এই  ঢাকা শহরে ২ লাখ টাকা শেষ হয়ে গেলে কি করুম? ক্যামনে চলুম? আমার মাইয়ার ভবিষ্যত তো আমার মতোই  অচল হইয়াগেছে। কথাগুলো শুনে আশ-পাশের মানুষ কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। এ কথাগুলোর উত্তর ও জানা ছিলনা হয়তো কারো। 

এপ্রিল মাসেই রানাপ্লাজায় জীবনের প্রথম চাকরী হয় সেফালির। দীর্ঘ ৪ মাস পায়ের জুতা খোয়ানোর পর চাকরী হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের কথা দিয়েছিলেন বিরাট এই ঢাকা শহরে নিয়ে আশার, ছোট বোনটিকে ডাক্তারি পড়ানোর। কিন্তু সব স্বপ্নকে ধুলিসাৎ করে রানাপ্লাজার ৪র্থ তলায় ৪ দিন আটকে থেকে বের হয়ে আসার পর এখন সেফালির চোখোমুখে যেন শুধুই অন্ধকার। সে এখনও বের হতে পারছেনা ভয়ার্ত দুঃসহ স্মৃতি থেকে। তার ছোট বোন বি২৪ নিউজকে বলেন, আপা হাসপাতালের ডাক্তারদের দেখলেই শুধু কান্দে। আর আমারে কই মাপ কইরা দিস বইন আমার পা থাকলে মানুষের বাসায় কাম কইরা হইলেও  তোরে ডাক্তার বানাইতাম কিন্তু আমার পা ই তো নাই এ কথা গুলো বলতে বলতে ডুকরে কেদে উঠল ১৪ বছর বয়সের খুশি। 

তিন মাস আগে আরেকটু ভাল থাকার লোভে স্বামী সহ ৩ সন্তানকে অনেকটা জোর করেই ঢাকায় নিয়ে এসেছিলেন আরেক সেলাই দিদিমনি সবিতা। তার স্বামী বি২৪ নিইউজকে বললেন, এই ৩ মাসে ২ গার্মেন্টসে কাজ করলেও একটি টাকাও আসেনি হাতে, উল্টো বেড়েছে পরিবারের ধারদেনা। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, গার্মেন্টস এ টাকা চায়তে গেলেই আমার বউরে খারাপ প্রস্তাব দেয় গার্মেন্টসের ম্যানেজার সাত্তার। ১৪ ঘন্টা কাজ করেও টাকা জোটেনা আমাগো আর মালিকরা দিব্যি বাসায় শুইয়া  টিভি, পত্রিকায় আমগো চোখের পানি দেইখা ঘুমায়তাছে। অহন বউ এর সেবা করতে করতে কাহিল হইয়া গেছি। কোন কামেও যাইতে পারতাছিনা বলেই বাচ্চা মেয়ে সুমাইয়াকে ধরে কাঁদতে থাকেন এই সেলাই দিদিমনি সবিতার স্বামী। মৃত্যুর কুপ থেকে ফিরে আসা এই মানুষ গুলো  এই প্রতিবেদকে বললেন, নিষ্ঠুর এই শহরে আর নয়। ফিরে যাবেন অনেকেই তাদের নিজ নিজ গ্রামে, আর যারা এই শহরে রয়ে যাবেন যাদের হয়তো ফিরে যাওয়ার আর কোন উপায় নেই হয়ত তারাই ফিরে যাবেন অন্য কোন গার্মেন্টসে, নতুন কোন মেশিনের কাছে, নতুন কোন মালিকের অধীনস্ত হয়ে শুধু একটু ভাল থাকার আশায়। 

দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, রাজনীতিবিদ দুঃসময়ে পাশে থাকা  সাংবাদিক বন্ধু সহ সকল মানুষ জীবনভর তাদের পাশে থাকবেন বাড়িয়ে দিবেন সবসময়ই সহযোগিতার হাত এমনটায় প্রতাশ্যা করছেন আমাদের পরিহিত জামা কাপড়ের সেলাই কারিগর দিদিমনিদের পরিবার গুলো।   

বি২৪নিউজডেস্ক

সম্পাদনায়ঃ Unknown সময়ঃ ৪:৩২ PM . বিভাগঃ , .

0 comments for " কেমন আছেন রানাপ্লাজা থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া আমাদের সেলাই দিদিমনিরা ??? "

Leave a reply

    আর্কাইভ