প্রকাশকালঃ
রবিবার, ২৬ মে, ২০১৩
সস্পাদনায়
Unknown
জাতি কি ভূলে গেলো সাভারের বীর উদ্ধারকর্মীদের?
কেমন আছেন রানা প্লাজার উদ্ধারকর্মীরা?
সাভার থেকে ফিরে আরিফ রহমান শিবলীরঃ (২য় পর্ব)
সাভার থেকে গত ২০-০৫-২০১৩ ইং এই জাতিকে জানিয়েছিলাম সাভারের দূর্ঘটনার কথা। হয়তো মহাসেন এর মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগ আর হেফাজতের ৫ই মের মত বড় বড় ঘটনার কারনে আমরা এখন ভূলে যেতে বসেছি। এমন সংবাদ বি২৪ নিউজে প্রকাশিত হওয়ার পর অনেকেই ফেসবুকে বলেছিলেন, "এটা ভোলার মত ঘটনা নয়! জাতি সারা জীবনই মনে রাখবে রানা প্লাজার দূর্ঘটনায় আহত সকল পোষাক শ্রমিকদের, মনে রাখবে সকল ভাই-বোনদের।" কিন্তু যাদের জন্য বের হয়েছে শত শত তাজা প্রান!!! যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে উদ্ধার তৎপরতা বেড়েছিল কয়েক গুণ, উদ্ধারকাজ হয়েছিল আরও সহজসাধ্য। তাদের খবর কতটুকু জানি আমরা? কেমন আছেন সেইসব উদ্ধারকর্মী ভাই ও বোনেরা? ভবনের ভিতর থেকে যখন টেলিভিশন ও সংবাদ পত্রের মাধ্যমে আহত হওয়া শাহিদা, রঞ্জু, ঝর্না, ইমন, আমেনা, ছবুরা, রহিমা সহ অনেক অনেক পোষাক শ্রমিক ভাই-বোনেরা এই জাতিকে আহ্বান জানিয়েছিল, তখন নিজেদের ঘরে ধরে রাখতে পারেনি রোশনেআরা বেগম, শফিক, রেদোয়ান, ইভা, মোনায়েম, বিজয়ের মত বীরসন্তানেরা। ভবনের যেখানেই শুনেছেন জীবিত মানুষের আওয়াজ ঝাপিয়ে পড়েছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, হাতে হাত রেখে। পরম স্নেহ ও মমতায় জীবিত বের করে নিয়ে এসেছেন আটকে পড়া শ্রমিকদের এবং দিয়েছেন প্রয়োজনীয় সেবা। এক মাস পার হওয়ার পর আমরা কতটুকু মনে রাখতে পেরেছি উদ্ধারকর্মী এই সকল বীর সন্তানদের? উত্তর গুলো মেলানোর জন্য সেদিন ঘুরে এলাম এনাম মেডিকেল হাসপাতাল থেকে। হাসপাতালে ঢুকতেই চোখে পড়লো এক চিকিৎসক অত্যন্ত বাজেভাবে বলছে, "আপনিতো আহত হন নাই, তাই না! এতো দিন হাসপাতালে পড়ে থাকলে এই টাকা কি সরকার দিবে ?" কথাগুলোর উত্তরে উদ্ধারকর্মী সোলায়মান ঐ চিকিৎসককে বলছিলো, "আমার শরীরের অনেক জায়গায় ব্যাথা করছে। আর ঔষধ কেনার টাকাও হাতে নাই" এ কথার প্রেক্ষিতে আরো ক্ষিপ্ত হন "নাদিরা শারমিন" নামের ঐ চিকিৎসক। প্রকাশ্যে ঘুরে দেখা গেছে এ সকল উদ্ধারকর্মীদের অল্প কিছুদিন চিকিৎসা দিয়েই জোর করে বের করে দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার কর্মী রঞ্জু বি২৪নিউজকে বলেন, "আমি টাঙ্গাইল থেকে টিভি দেইখা চলে আসছি। রানা প্লাজার ভিতরে ঢুকে ৯ জনকে জীবিত বের করে আনছি! ৯ম দিনে উদ্ধার কাজ করতে গিয়া কংক্রিটের আঘাতে জ্ঞান হারাইয়া ফেলছিলাম। কিন্তু এই মেডিকেলে চিকিৎসা পাচ্ছিনা খুব একটা। প্রতিদিন হাসপাতালের লোক এসে বলে বাড়িতে চইলা যেতে।" তিনি আরো বলেন, "অনেক উদ্ধারকর্মী ভালো চিকিৎসা না পেয়ে চলে গেছে নিজ নিজ ঘরে।" সরকারের কাছে তখন আমার প্রশ্ন ছিল, "রানা প্লাজায় নিজেদের জীবন বাজি রেখে এসকল উদ্ধারকর্মীরা কেন কাজ করেছিলো ? টাকার লোভে ? নাম যশের লোভে ?" না! কোনটার জন্য এ সকল উদ্ধারকর্মীরা রানা প্লাজায় আসেনি। এসেছিলেন শুধু মানবতার খাতিরে। পরিশ্রম করে গেছেন দিন রাত। আর আজ এরাই অসহায়! সাভারের আওড়া পাড়ায় আফতাব পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়ে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। সাভার ও আশপাশের অনেক উদ্ধার কর্মী টাকার অভাবে, চিকিৎসার অভাবে বাসায় শুয়ে এখন কাতরাচ্ছেন। রাহেলা নামের এক মা বি২৪নিউজকে বলেন, "আমার পোলা রায়হানের চিকিৎসার টাকার লাইগা এহন আমারে ভিক্ষা করতে হইতাছে।" সরকারের সহযোগিতা পাচ্ছেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে উদ্ধার কর্মী বীরসন্তানেরা বলেন, "যদি দল করতাম তাহলে হয়তো সহায়তা পাইতাম"
উদ্ধার কর্মী এ সকল মানুষের চিকিৎসার অনিয়মের ব্যাপারে কথা বলতে গেলে এনাম মেডিকেলের ম্যানেজার গনমাধ্যম কর্মীদের বলেন, "এটা সম্পূর্ন ভিত্তীহিন কথা বার্তা। আমাদের সকল চিকিৎসক দিন রাত খেয়ে না খেয়ে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন সবাইকে।" উদ্ধার কর্মী সোলায়মান কে দ্রুত হাসপাতাল ছাড়তে বলা চিকিৎসক নাদিরা শারমীনের কথা হাসপাতাল কতৃপক্ষকে জানালে বি২৪নিউজকে বলা হয়, "ঘটনা সত্য হয়ে থাকলে দায়ী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে"
অসাধারণ লিখেছ শিবলী ভাইয়া