প্রকাশকালঃ
মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০১৩
সস্পাদনায়
Unknown
কালকের ম্যাচ জিতলেই সিরিজ জিতবে বাংলাদেশ
স্পোর্টন ডেস্ক : ২০০৯ সালে ২ বার ঘটেছে একই ঘটনা। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে টুর্নামেন্টে শ্রীলংকার সঙ্গে খেলেছে ফাইনাল, আবার হার দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ট্রফি জিতেছে বাংলাদেশ সেবার। সেই ২টি সিরিজ হোমে। ২০০৫ এ ০-২এ পিছিয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩-২এ
সিরিজ জয়ের অতীতও আছে বাংলাদেশের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১২টি সিরিজের ৭টিতে বাংলাদেশ জিতেছে, এই ৭টি সিরিজের ২টি সিরিজ বাদ দিলে প্রতিটিতেই শেষ ম্যাচ পরিণত হয়েছে ফাইনালে।
তবে ২০০৯ এ সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের মাটিতে সিরিজ জয়টি বুলাওয়েতে, টানা তিন ম্যাচ জিতে সিরিজের ট্রফি নিশ্চিত করে ৪র্থ ম্যাচে হেরে গেছে বাংলাদেশ। ৫ম ম্যাচে স্বরূপে ফিরেছে বাংলাদেশ।
তবে লাকি ভেন্যুতে টানা ৫ ম্যাচ জিতে গত পরশুর হার বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বাংলাদেশকে। ঠিক ২০০৪ সালে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সিরিজের মতো ¯ড়বায়ুচাপে এখন বাংলাদেশ দল। আগামীকাল অলিখিত ফাইনালের আগে তাই অনেক অংক কষতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে। টানা ২ ম্যাচে টসে হেরে প্রত্যাশিত ব্যাটিংয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। বুলাওয়ে স্পোর্টস ক্লাবের মাঠে এপ্রিল মে মাসের উইকেট ধাধায় ফেলে, তা মনে করছেন আশরাফুল- ‘এর আগে বুলাওয়েতে যেসব উইকেটে খেলেছি, সেই উইকেটের সঙ্গে মিল নেই এখনকার উইকেটের। উইকেটে ঘাস আছে একটু বেশি। স্পিন হচ্ছে না।’ উইকেট নিয়ে একই ধরনের ধারণা পোষণ করছেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ব্র্যান্ডন টেলর- ‘উইকেটের পেছনে থেকে যা দেখছি, তাতে মনে হয় না কোন সিম মুভমেন্ট আছে। শুরুতে অবশ্য কিছুটা সুইং পায়, প্রথম ১০ ওভার কোনমতে দেখেশুনে পার করার কথা বলেছি ছেলেদের। দিনের অন্যসময় একই ধরনের পিচ থাকে। স্পিন খুব সামান্যই ধরে এখানে। বলতে পারেন, দারুণ ব্যাটিং উইকেট এটি।’ টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পর পর ২ ম্যাচে প্রথম পাওয়ার প্লেতে রানের জন্য ভুগেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে শুরুতে রানের জন্য ভুগলেও ৬৫ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপের সুবাদে জিম্বাবুয়েকে চ্যালেঞ্জ দিতে পেরেছে বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম ১০ ওভারে ২৯/২ স্কোর চ্যালেঞ্জিং স্কোরের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাটিং বোলিং করতে না পারায় চটেছেন বাংলাদেশ
কোচ শেন জার্গেনসেন। টেলিফোনে এ তথ্য দিয়েছেন টিম ম্যানেজার তানজীব আহসান সাদ- ‘শুরুতে পিচ ভেজা থাকে, পরে উইকেট শুকনো হয়ে যায়। এমন পিচে প্রথম ম্যাচে যেভাবে টপ অর্ডাররা ব্যাটিং করেছে, সেভাবে ব্যাটিংয়ের নির্দেশনা ছিল কোচের। পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে না পারায় তাই কোচ অসন্তুষ্ট।’
শুরুতে অনিয়ন্ত্রিত বোলিংও এই ম্যাচে বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিয়েছে, টিম মিটিংয়ে সেটাই বলেছেন কোচ।
এদিকে আম্পায়ারের বাজে সিদ্ধান্ত বার বার ভোগাচ্ছে বাংলাদেশ দলকে, গত ম্যাচে তিন তিনটি বাজে আউটের সিদ্ধান্তে আশরাফুল, মুশফিকুর এবং সাকিবকে ফিরিয়ে দেয়ায় ম্যাচ শেষে ক্যাপ্টেনস রিপোর্টে তা উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে।তবে ইনসাইড এজ হয়ে উতসিয়ার বলে এলবিডব্লিউর আপিলে জিম্বাবুয়ে আম্পায়ার ওয়েন চিরুম্বে সাড়া দেয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মনঃক্ষুণড়ব হয়ে পিচের উপর সজোরে ব্যাট দিয়ে আঘাত করায় সাকিবকে অর্থদ-ে দ-িত করেছেন ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড। ব্যাট দিয়ে পিচের উপর আঘাত করার সময় পায়ে আঘাত পেতে পারতেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক টেলর, তাৎক্ষণিকভাবে তার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন সাকিব। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি, লেভেল টু অপরাধে (২.২.১) ৭৫ শতাংশ ম্যাচ ফি কেটে নেয়া হয়েছে সাকিবের। ম্যাচ রেফারির দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ করেছেন সাকিব-
‘একজন সিনিয়র ক্রিকেটার এবং সাবেক অধিনায়কের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয় কারো। আম্পায়ার একবার আঙুল তুললে কোন ধরনের আবেগ না দেখিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ক্রিকেটারকে। এটাই নিয়ম।’ এদিকে শ্লো ওভার রেটের জন্য জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক টেলরের ২০ শতাংশ ম্যাচ ফি এবং পুরো দলের ১০ শতাংশ ম্যাচ ফি কর্তন করেছেন ম্যাচ রেফারি।
