প্রকাশকালঃ
বুধবার, ৮ মে, ২০১৩
সস্পাদনায়
Unknown
আন্তর্জাতিক তদন্ত চায় বিএনপি
শাপলা চত্বরের অবস্থান নেওয়া হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের সরাতে যৌথবাহিনীর চালানোর রোববারের অভিযানকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে 'নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের' দাবি জানিয়েছে বিএনপি একই সঙ্গে জনগণকে প্রতিবাদ ও ন্যায়বিচার দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে সোচ্চার হওয়ার ডাক দিয়েছে দলটি।মঙ্গলবার এক দীর্ঘ বিবৃতিতে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি বলেছে, "এই হত্যাযজ্ঞ সম্পূর্ণভাবে ঠাণ্ডা মাথায় সুপরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। এই গণহত্যার পর দেশের শাসন ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই আওয়ামী লীগের।"
সোমবার অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে হেফাজত ইসলামকে সরাতে পুলিশি অভিযানের বিষয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। সেই মোতাবেক বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু স্বাক্ষরিত স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে এক দীর্ঘ বিবৃতি দেওয়া হয় মঙ্গলবার। সোমবারই এক সংবাদ সম্মেলনে রোববারের অভিযানকে 'গণহত্যা' অভিহিত করে বিএনপি। দলটির মঙ্গলবারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "মধ্যরাতের এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আধা সামরিক বাহিনীকে রণসজ্জায় সজ্জিত করে অভিযানে নামানো হয়।সমাবেশ ভাঙ্গতে এপিসিসহ যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত ভয়ঙ্কর সব মরণাস্ত্র ও সাজ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। অথচ বিডিআর বিদ্রোহের সময় পিলখানায় আটক সেনা কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের রক্ষার জন্য করুণ ফরিয়াদ সত্ত্বেও সরকার এ ধরনের অভিয়ান চালানো অনুমতি দেয়নি।"
৫ মের ঘটনাকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রির সঙ্গে তুলনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, "২৫ মার্চের মতো ওই দিনও ঘুমন্ত ও ইবাদতরত মানুষের ওপর পৈশাচিক গণহত্যা চালানো হয়েছে।এই হত্যাকাণ্ডে আইন-শৃঙ্খলা ও আধা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরকারী দলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরাও সরাসরি অংশ নিয়েছে। এই বর্বরতা ঔপনিবেশিক ভারতের কুখ্যাত জালিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকাণ্কেডও হার মানিয়েছে।"এ ঘটনায় সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবরণ বা প্রেসনোট না দেওয়ার সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, "হতাহতের কোনো সঠিক পরিসংখ্যানও দেশবাসীকে জানানো হয়নি।বিদেশি গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সূত্রে আড়াই থেকে তিন হাজার লোককে হত্যা এবং দশ হাজারের অধিক মানুষ আহত হবার কথা জানা যাচ্ছে।"
১৩ দফা দাবি আদায়ে রোববার ঢাকা অবরোধ ও শাপলা চত্বরের সমাবেশ কর্মসূচিকে ঘিরে মতিঝিল, পল্টন, বায়তুল মোকারম ও আশপাশে তাণ্ডব চালায় হেফাজতকর্মীরা।সমাবেশ শেষে তারা মতিঝিল ছেড়ে না যাওয়ার ঘোষণা দেয়। পরে রোববার রাত ৩টার দিকে পুলিশ-র্যাব-বিজিবির ১০ হাজার সদস্যের যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়।ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোমবার বলেন, ওই অভিযানে কেউ নিহত হয়নি।
তবে বিএনপির দাবি, অভিযানে শত শত মানুষ হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে। অভিযানের পর থেকে বিএনপির জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর প্রোপাগান্ডা পেইজ হিসেবে পরিচিত একটি ফেইসবুক পেইজ থেকে অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হওয়ার গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
এই উস্কানিমূলক গুজবের জবাবে প্রেসনোট দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি মঙ্গলবার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও দফরতরবিহনীর মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
