প্রকাশকালঃ
বুধবার, ৫ জুন, ২০১৩
সস্পাদনায়
Uzzwal Dhali
রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনায় পা হারানো রেবেকার গল্প
পেশায় রাজমিস্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। মোস্তাফিজুর ২৩ বছর বয়সের রেবেকাকে জীবনসঙ্গীনি হিসেবে বেছে নেন প্রায় ৩ বছর আগে। ভালোই চলছিল এই দম্পত্তির সংসার। তারা থাকতেন দিনাজপুরের ফুলবাড়িরতে। সাভারে এসে আড়াপারার রশিদ মেম্বারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তারা। এক রুমের চোট্ট ঘরে ভালোই কাটছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। সাভারের রানা প্লাজার ষষ্ঠ তলায় নিউ ওয়েব গার্মেন্টসে চাকুরি করতেন রেবেকা। রেবেকা বেশ হাশিখুশি ছিলেন বলেই জানান মোস্তাফিজুর। ২৪ শে এপ্রিল ও হাসিমুখে রেবেকা বেরিয়েছিলেন কর্মক্ষেত্রে। কিন্তু রানা প্লাজা ধ্বসে পড়লে ওইদিন ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে রেবেকা’র দুই পা এবং বাম পায়ের ওপরে পড়ে বড় একটি বিম। ভবন ধ্বসের দু’দিন পর ২৬ এপ্রিল উদ্ধার হন তিনি। প্রথমে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং এরপর পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তাকে। কোমর থেকে শুরু করে বাম পা পুরোটাই কেটে ফেলা হয়েছে রেবেকার। চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, না হলে মোস্তাফিজুর এর অর্ধাঙ্গীকে বাঁচানো যাবে না। তারপরও মোস্তাফিজুর খুশি যে রেবেকা আবার ফিরে এসেছে তার জীবনে। তিনি বলেন, "ও (রেবেকা) বেঁচে আছে হাজার শোকর। পা ছাড়া কি মানুষ চলে না!" রেবেকার প্রতি মমতা ফুটে ওঠে মুস্তাফিজুরের কথায়, দৃষ্টিতে। দু’জনের আয়ের ছোট সংসারে সন্তান নেওয়ার সময় হয়নি ভেবেছিলেন তারা। মোস্তাফিজুর জানান দুর্ঘটনার আগে অর্ধাঙ্গী বেশ হাশিখুশি ছিলেন। তিনি জানান, "অনেক কথা বলতো। তবে রেবেকা এখন চুপচাপ থাকে।"
চিকিৎসা ব্যয় সরকার থেকে বহন করার পরও, আরো অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সাহায্য করেছে রেবেকাকে। সেই অর্থ পুঁজি করে কোনো উদ্যোগ নেওয়ার ইচ্ছে ভাগ্য বিড়ম্বিত এই দম্পত্তির। হুইল চেয়ারে চলতে হবে রেবেকাকে। আশা করছেন, কয়েকদিনের মধ্যেই হাসপাতাল ছাড়বেন।