প্রকাশকালঃ
সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
সস্পাদনায়
Unknown
সাক্ষ্য দিতে ভারত যাচ্ছে ফেলানীর বাবা
বি২৪ নিউজ ডেস্ক: বহুল আলোচিত চাঞ্চল্যকর ফেলানী হত্যার বিচার পুনরায় শুরু হয়েছে ভারতের বিশেষ আদালতে।আগামী দুই একদিনের মধ্যেই সাক্ষ্য দিতে এবং আদালতকে সহযোগিতা করতে ভারত যাবেন ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম, মামা আব্দুল হানিফ, ৪৫ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোফাজ্জল হোসেন আকন্দ ও কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এস এম আব্রাহাম লিংকন।
এ ব্যাপারে ভারত সরকারের পক্ষে বিএসএফ পক্ষ থেকে যে কোন সময় আমন্ত্রণ জানাবে বলে জানা গেছে। কুচবিহারে বিএসএফ’র সেক্টর হেড কোয়ার্টারের বিশেষ আদালতে আজ থেকে এ বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম ৪৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোফাজ্জল হোসেন আকন্দ।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারী শুক্রবার ভোর সোয়া ৬টার দিকে দালালের মাধ্যমে মই বেয়ে কাটাতারের বেড়া পাড় হবার সময় ভারতীয় বিএসএফ’র গুলিতে বিদ্ধ হয়ে আধাঘন্টা ধরে ছটফট করে নির্মমভাবে মৃত্যু হয় কিশোরী ফেলানীর।এর পর সকাল পৌনে ৭টার থেকে নিথর দেহ কাঁটাতাঁরের উপর ঝুলে থাকে দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘন্টা। পরে বিএসএফ লাশ নামিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। এরপর বিশ্বব্যাপী তোলপাড় শুরু হলে মৃত্যুর ৩০ ঘন্টা পর ৮ জানুয়ারী শনিবার লাশ ফেরত দেয় বিএসএফ।
এ ঘটনাটি দেশ-বিদেশের গনমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মীদের কাছে ব্যাপকভাবে সমালোচনার ঝর তোলে। খোদ ভারতের গনমাধ্যমগুলোর সোচ্চার ভূমিকায় কোচবিহারের বিএসএফ’র বিশেষ আদালতে ২০১৩ সালের ১৩ আগষ্ট বিচারিক কার্যক্রম শুরু করে ভারত সরকার। আদালতে স্বাক্ষী দেন প্রত্যক্ষদর্শী বাবা নুর ইসলাম ও মামা আব্দুল হানিফ। কিন্তু অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমীয় ঘোষকে ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বেকসুর খালাস দেয় বিশেষ আদালত। ফেলানী হত্যার সঠিক বিচার না পেয়ে ২০১৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ভারতীয় হাইকমিশনারের মাধ্যমে ভারত সরকারের নিকট পুনঃ বিচারের আবেদন করেন ফেলানীর বাবা। এর পর শুরু হয় কুটনৈতিক ও বৈদেশিক চাপ। পরে বিজিবি-বিএসএফ’র দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ফেলানী হত্যার পুনর্বিচরে সম্মত হয় বিএসএফ। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার পুণরায় বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
