Headlines

জাতীয়


HOTEL GIVENCI INT.
T h e P a s t, P r e s e n t a n d F u t u r e
প্রকাশকালঃ রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
সস্পাদনায় Unknown

আজ শেখ হাসিনার ৬৮তম জন্মদিন

 বি২৪ নিউজ ডেস্ক: আজ ২৮ সেপ্টেম্বর রোববার প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার ৬৮তম জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের আজকের দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার জন্ম। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের প্রথম সন্তান।

প্রধানমন্ত্রীর শৈশব কেটেছে দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও দাদী সাহেরা খাতুনের কোলে-পিঠে, টুঙ্গীপাড়ার বাইগার নদীর তীরে। ছোট বেলায় শেখ হাসিনাকে সবাই আদর করে ‌হাসু নামে ডাকতেন। 

গ্রামবাংলার ধূলোমাটি আর সাধারণ মানুষের সঙ্গে বেড়ে উঠা শেখ হাসিনার সঙ্গে নদী, গ্রাম, খোলা আকাশ, বাংলার প্রকৃতির সখ্যতা ছোট বেলা থেকেই। এজন্য তিনি বাংলার মানুষের দুঃখ-কষ্ট হৃদয় দিয়ে বুঝতে পারেন।

শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু হয় টুঙ্গীপাড়ার এক পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদের  নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচিত হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

পুরানো ঢাকার মোগলটুলীর রজনী বোস লেনে বসবাস শুরু করেন বঙ্গবন্ধুর পরিবার। পরে বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হলে ৩ নম্বর মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে উঠেন তারা। টিকাটুলির নারীশিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তির মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা শহুর জীবনের পড়াশুনা শুরু। ১৯৬৫ সালে শেখ হাসিনা আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন ঢাকার বকশীবাজারের ইন্টারমিডিয়েট গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে। একই বছর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে ছাত্রজীবন থেকে প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে তিনি ছাত্রলীগের অন্যতম নেত্রী ছিলেন।  

১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। ব্যক্তিজীবনে শেখ হাসিনা দুই সন্তানের জননী। ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। এর পর থেকে ৩২ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও আপসহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল স্রোতধারার প্রধান নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।

তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক জোট ও দল ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে বিজয়ী হয়। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বেই তৎকালীন বিএনপি সরকারের পতন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিজয় অর্জন করে আওয়ামী লীগ।

গত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় প্রধান বিরোধী দলের নেতা হিসেবে তার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে প্রথমে ১৪ দলীয় জোট এবং পরে মহা ঐক্যজোট গড়ে ওঠে। ১৪ দল ও মহা ঐক্যজোটের তীব্র আন্দোলনের মুখে অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২২ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি করে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে ওই বছরের ১৬ জুলাই গ্রেফতার হন শেখ হাসিনা। ওই সময় সংসদ ভবন চত্বরের বিশেষ কারাগারে দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস বন্দি ছিলেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে এর আগেও কয়েক দফা গৃহবন্দি হন তিনি।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এ পর্যন্ত তিন মেয়াদে ক্ষমতাসীন হয়েছে। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে দীর্ঘ ২১ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি। ওই বছরের ১২ জুনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে ২৩ জুন সরকার গঠন করে তারা। এর পর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে চার-তৃতীয়াংশ আসনে বিশাল বিজয় অর্জনের মাধ্যমে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগসহ মহাজোট সরকার গঠিত হয়। দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা।

চলতি বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরপর দ্বিতীয় মেয়াদের মহাজোট সরকার গঠিত হয়েছে। এ ছাড়া ১৯৮৬ সালের চতুর্থ, ১৯৯১ সালের ষষ্ঠ এবং ২০০১ সালের অষ্টম সংসদে, অর্থাৎ মোট তিন দফা বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

শান্তি, গণতন্ত্র, স্বাস্থ্য ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার, দারিদ্র্য বিমোচন, উন্নয়ন এবং সাম্প্রদায়িক ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাসহ মানব কল্যানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসংখ্য পদক ও পুরস্কারে ভূষিত হন।

পুরস্কারগুলোর কয়েকটি হলো বিশ্ব খাদ্য সংস্থার সেরেস পদক, ইউনেসকোর পার্ল এস বাক পদক, মাদার তেরেসা পদক, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু স্মৃতি পদক, আন্তর্জাতিক লায়ন্স ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের ১৯৯৬ ও ১৯৯৮ সালের রাষ্ট্রপ্রধান পদক, রোটারি ফাউন্ডেশনের পল হ্যারিস ফেলোশিপ, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার; গণতন্ত্র, মানবাধিকার, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সৃজনশীল লেখালেখির জন্য বিশ্বের খ্যাতনামা ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন শেখ হাসিনা। 

দারিদ্র্য দূরীকরণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ কর্তৃক সম্মানজনক 'সাউথ-সাউথ' পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। মহিলা ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় সম্প্রতি ইউনেস্কো মহাপরিচালক তার হাতে শান্তিবৃক্ষ তুলে দেন। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর অধিকার আদায়ে বলিষ্ট ভূমিকা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘের ৬৯তম অধিবেশন উপলক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় থাকায় এবারের জন্মদিনটিও দেশের বাইরে কাটাতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে। জন্মদিনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফুলের তোড়া উপহার দেওয়া হবে। 

বি২৪নিউজডেস্ক

সম্পাদনায়ঃ Unknown সময়ঃ ৯:১৪ AM . বিভাগঃ , .

0 comments for " আজ শেখ হাসিনার ৬৮তম জন্মদিন "

Leave a reply

    আর্কাইভ